তোমরা কি বলতে পারবে পোশাক কবে সৃষ্টি হয়েছিল? প্রকৃতপক্ষে কবে, কখন পোশাকের উৎপত্তি হয় তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ দেহে আচ্ছাদন ব্যবহার করে আসছে। আদিমযুগের মানুষেরা দেহে গাছের বাকল, পাতা, প্রাণীর চামড়া, পালক, অলংকার ইত্যাদি আচ্ছাদন হিসেবে ব্যবহার করত। সে যুগের মানুষেরা চামড়ার সাথে সংযুক্ত পা বা খুর দুটো গলার পেছন দিকে বেঁধে বুক ও পিঠ ঢেকে রাখত। চামড়া বড় হলে খুরগুলো গলা ও কোমরের কাছে এনে গিঁট দিয়ে রাখত। এ ধরনের ব্যবস্থা সুবিধাজনক ছিল না, প্রায়ই খুলে যেত।

ধীরে ধীরে মানুষ সেলাই করার কৌশল আবিষ্কার করে। মৃত পশুর শুকনো রগ দিয়ে সুতা এবং চিকন হাড় থেকে সুচ অবিষ্কার করে চামড়া সেলাই করে দেহ আচ্ছাদন করে। এরূপ পোশাক বেশ নিরাপদ ছিল। দেহে সেঁটে থাকত এবং খুলে যেত না। এর পর মানুষ শীত, গরম, বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাবার জন্য চামড়া সেলাই করে তাঁবু তৈরি করে। পরবর্তীতে চামড়া আরো প্রক্রিয়াজাত করে আরামদায়ক, উন্নত ও স্থায়ী পোশাক তৈরি করতে সক্ষম হয়।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের নিদর্শন থেকে দেখা গিয়েছে যে, প্রাচীনকালে চরকার প্রচলন ছিল। অর্থাৎ সে যুগেও সুতা কেটে মানুষ বস্ত্র তৈরি করত। তবে দেখা গিয়েছে যে, তখন বস্ত্রের জন্য মানুষেরা প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল ছিল। এরপর একসময় মানুষ প্রাকৃতিক উদ্ভিদ আঁশ, প্রাণীর চুল বা লোম, গুটিপোকার লালা ইত্যাদি থেকে সুতা বানিয়ে সেই সুতা দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে বস্ত্র তৈরি করে এবং উক্ত বস্ত্র ছেঁটে পোশাক সেলাই করা শুরু করে।
তোমরা খেয়াল করবে যে, সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে অনেক যন্ত্রপাতি, কলকারখানার আবিষ্কার হয়। ফলে শুধু প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল না থাকার জন্য মানুষ প্রাকৃতিক উপাদানের সাথে রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে অথবা এককভাবে রাসায়নিক উপাদান থেকে কৃত্রিম তন্তু আবিষ্কার করে এবং ঐ সুতা দিয়ে বস্ত্র বানিয়ে নানা ধরনের পোশাক বানাতে সক্ষম হয়। মানুষ যেহেতু সৌন্দর্যের অনুসারী তাই পোশাকের প্রতি মানুষের চাহিদা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। আর এ কারণেই বস্ত্র উৎপাদনে যেমন বৈচিত্র্য আসছে, তেমনি পোশাকের ডিজাইনেও নতুনত্ব লক্ষ করা যায়। তবে দেশ, কাল, ধর্মভেদে এই ডিজাইনে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
| কাজ- ১ : প্রাচীনকালের মানুষেরা পোশাক তৈরির জন্য কিসের উপর নির্ভরশীল ছিল তা শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মামার সাথে নিতু জাদুঘরে বেড়াতে গেল। সে সেখানে আদিমযুগে ব্যবহার্য পোশাক দেখল এবং প্রাচীনকালের যন্ত্রে তৈরি পোশাকও দেখল। এর ফলে সে পোশাকের ক্রমবিকাশ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করল।
Read more